আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: গতরাতে লিবিয়া সরকার বিরোধী বিপ্লবীরা এদেশের রাজধানী ত্রিপোলী’র পশ্চিম অঞ্চলকে দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে উক্ত অঞ্চলে গাদ্দাফী পন্থী সৈন্যদের কোন প্রকার প্রতিরোধমূলক তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গতরাতে (রবিবার) তেহরান সময় প্রায় রাত ৯:৩০ মিনিটে লিবিয়ার সরকার বিরোধী বিপ্লবীদের ২০০ জনের একটি দল নদী পথে ত্রিপোলীতে প্রবেশ করলে এ শহরের বিমানবন্দরে স্বৈরাচারী গাদ্দাফীর সামরিক বাহিনী’র সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিপ্লবীরা একটি সামরিক ব্যারাক দখল করে নেয় এবং উক্ত অঞ্চলের একটি কারাগারে আটক কয়েদীদেরকে মুক্ত করে দেয়।
এসোসিয়েটেড প্রেস হতে প্রচারিত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদে ঘোষণা করা হয়েছে যে, লিবিয়ার বিপ্লবীরা ত্রিপোলী শহরের সামরিক বাহিনী’র প্রধানকে গ্রেপ্তার করে এ শহরের সবচেয়ে বড় অস্ত্রাগারকে নিজেদের দখলে নিয়েছে।
আল-জাজিরা চ্যানেলও ঘোষণা করেছে যে, বিপ্লবীরা ত্রিপোলী’র প্রাণকেন্দ্র ক্বারক্বাশ অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে এবং গাদ্দাফীপন্থী সৈন্যরা উক্ত অঞ্চল হতে পশ্চাদাপসারণ করেছে।
তেহরান সময় রাত ১২:৪৫- আল-জাজিরা লিবিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের পুত্রের নিহত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে এবং পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম গাদ্দাফী’র গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও জানিয়েছে।
রাত ০১:০০– বিপ্লবীদের নেতা উক্ত সংবাদকে সত্যায়ন পূর্বক স্বৈরাচারী গাদ্দাফীর পতনের কথা উল্লেখ করে ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বিভিন্ন কর্মসূচীর ব্যাপারে কথা বলেছেন।
রাত ১:৩০- এসোসিয়েটেড প্রেস: লিবিয়ান বিপ্লবীরা ত্রিপোলী শহরের মূল কেন্দ্রের কাছাকাছি পোঁছে গেছে এবং এ শহরের মূল কেন্দ্র হতে দুই কিলোমিটার দূরে তারা অবস্থান করছে। অপরদিকে গাদ্দাফী পন্থীরা বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে দূর্বল প্রতিরোধ গড়ে তুলে দ্রুততার সাথে পিছু হটছে।
রাত ১:৪০ মিনিট- আল-জাজিরা ঘোষণা করেছে: বিপ্লবীরা এগিয়ে যাচ্ছে এবং ত্রিপোলীর অধিকাংশ অঞ্চলই এখন তাদের দখলে। গাদ্দাফীপন্থী সৈন্যরা ‘বাবুল আযিযিয়াহ’ নামক স্থান অবধি পিছু হটেছে।
রাত ১:৫০ মিনিট – ন্যাটো বাহিনী’র বরাত দিয়ে আল-আলাম ঘোষণা করেছে যে, গাদ্দাফী সরকারের পতন ঘটেছে।
রাত ২:১০ মিনিট– ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান মুস্তাফা আব্দুল জালিল ঘোষণা করেছেন যে, যদি গাদ্দাফী এবং তার সন্তানেরা ঘোষণা করে যে, তারা ক্ষমতা হতে সরে দাঁড়াবে তবে আমরা যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
রাত ২:১৫ মিনিট– রয়টার্সের দাবী: গাদ্দাফীর বড় ছেলে ‘মুহাম্মাদ’ বিপ্লবীদের নিকট আত্মসমার্পন করেছে।
রাত ২:২২ মিনিট- গাদ্দাফী রেডিও হতে বক্তৃতার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ত্রিপোলী’র উদ্দেশ্যে আসার জন্য তার গোত্র ও সমর্থকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। বিগত ২৪ ঘন্টায় তৃতীয় বারের মত গাদ্দাফীর বাণী প্রচারিত হল। আরব বিশ্বে এমন ঘটনাকে বিরল বলে জানে প্রচার মাধ্যমসমূহ।
রাত ২:৩০ মিনিট– ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান মুস্তাফা আব্দুল জালিল ঘোষণা করেছেন যে, আমরা সাইফুল ইসলাম গাদ্দাফীকে গ্রেপ্তার করেছি।
রাত ২:৩৫ মিনিট– বিপ্লবীরা ত্রিপোলীর প্রাণ কেন্দ্র সাহাহ আল-খাদরা’ (গ্রীন স্কয়ার)-এর উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। টিভি চ্যানেলসমূহ ত্রিপোলী’র প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খাদ্বরা স্কয়ারে জনগণের উল্লাশের চিত্র প্রচার করেছে।
রাত ২:৫০ মিনিট– কিছু কিছু সংবাদ সংস্থা ত্রিপোলী বিমানবন্দরে দু’টি বিমান অবতরণের কথা স্বীকার করেছে। উক্ত বিমান দু’টি আফ্রিকার দক্ষিন অঞ্চল হতে ত্রিপোলীতে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে লিবিয়ার স্বৈরাচারী সরকারের পলায়নের উদ্দেশ্যে তা প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে।
রাত ২:৫৫ মিনিট– বিভিন্ন স্যাটালাইট চ্যানেল হতে বিনগাজী শহরে জনগণের বিজয় উল্লাশ ও আতশ-বাজী ফুটিয়ে আনন্দ উল্লাশ করার চিত্র প্রচার করা হচ্ছে।
রাত ৩:০০– লিবিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের পুত্রের নিহত হওয়ার সংবাদ দিয়েছে আল-জাজিরা।
রাত ৩:১০ মিনিট – সাইফুল ইসলাম গাদ্দাফী’র গ্রেপ্তারের কথা সত্যায়িত করেছে সি এন এন।
রাত ৩:১৫ মিনিট – বিবিসি (আরবি) বিপ্লবীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, গাদ্দাফী আলজেরিয়াতে পলায়ন করেছে।
রাত ৩:২২ মিনিট- বিপ্লবীরা ঘোষণা করেছে: বাবুল আযিযিয়া ব্যতীত সমস্ত ত্রিপোলী আমাদের নিয়ন্ত্রণে।
রাত ৩:৩০ মিনিট- আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন বিষয়ক আদালতের এক কর্মকর্তা দাবী করেছে যে, মুয়াম্মার গাদ্দাফী গ্রেপ্তার হয়েছে।#